আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ইস্যুতে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ইমেইল আদান-প্রদানের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে মিত্র দেশগুলোর ওপর তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, অবস্থানগত সুবিধা এবং আকাশসীমা অতিক্রমের (এবিও) অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ‘এবিও’ সুবিধা নিশ্চিত করা ন্যাটোর যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রের জন্য ন্যূনতম দায়িত্ব।
ফাঁস হওয়া ইমেইলের তথ্য অনুযায়ী, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের মতো চরম প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি ওয়াশিংটনের যে সমর্থন ছিল, সেটি পুনর্বিবেচনা করার বিকল্পও রাখা হয়েছে। ইমেইলে কিছু মিত্র দেশকে ‘ডিফিকাল্ট’ বা অসহযোগিতামূলক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কাজ করলেও মিত্ররা নৌবাহিনী পাঠিয়ে সহায়তা করেনি। তবে পেন্টাগনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্যপদ ত্যাগ করা কিংবা ইউরোপ থেকে মার্কিন ঘাঁটি গুটিয়ে নেওয়ার মতো কোনো প্রস্তাব নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলে উইলসন সরাসরি মন্তব্য না করলেও প্রেসিডেন্টের অসন্তোষের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেও সংকটে মিত্রদের পাশে পাওয়া যায়নি। তাই মিত্ররা যাতে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়, সেজন্য প্রেসিডেন্টের হাতে কার্যকর সব বিকল্প প্রস্তুত রাখছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন। শাস্তির খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি বিশ্বস্ত সদস্য এবং তারা সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। তাই জোট থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন।
উল্লেখ্য, কেবল স্পেন নয়, ফ্রান্স ও ইতালিও মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য শুরুতে অসম্মতি জানালেও পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে শুধু ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজের জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। মিত্রদের এমন পিছুটানকেই ন্যাটোর আদর্শের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
Reporter Name 