নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি ইস্যুতে সংসদ মুলতবি করে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে ‘সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সরকারি বক্তব্যে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সাশ্রয় করতে খোদ হাইকোর্টকেও ভার্চুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই সংকট কেবল সরকারের সৃষ্টি নয়, বরং বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত একটি সমস্যা। তাই জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক হিসেবে এই সংকট মোকাবিলায় এবং সরকারের ওপর চাপ কমাতে বিরোধী দলও গঠনমূলক অবদান রাখতে চায়।
বিরোধী দলের এই মুলতবি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি যুক্তি দেখান যে, বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩০০ বিধিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন এবং সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে তেল বা গ্যাসের কোনো সংকট নেই।
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেই তারা এই জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজতে সংসদে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন। সরকারি দল একা দায়িত্ব পালন না করে সবাইকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সহজ করার উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি বিবেচনায় নেন। তিনি জ্বালানি ইস্যুর গুরুত্ব স্বীকার করলেও সংসদ মুলতবি না করে নিয়মিত কার্যসূচির মাঝেই এই বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
Reporter Name 