নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদী বাজারে শুক্রবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একদল মুখোশধারী ডাকাত বাজারের অন্তত সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ও শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপা এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছয়টি স্বর্ণের দোকান ও একটি বড় মুদি দোকান রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে বাজারের দোকানগুলোতে হানা দেয়। সেন্টু মালোর ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ৫০০ ভরি রুপা এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ মণ্ডলের নিউ নারান জুয়েলার্স থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল, পরিমল মালোর নিউ প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্স থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ, এক কেজি রুপা ও ৯৫ হাজার টাকা এবং স্বদেব মণ্ডলের নিউ কণিকা জুয়েলার্স থেকে ১ ভরি স্বর্ণ, ৭০ ভরি রুপা ও ৪০ হাজার টাকা নগদ লুট হয়।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গৌতম মালোর শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স থেকে ৫৫ ভরি রুপা ও ভরত মালোর মা লক্ষ্মী গহনালয় থেকে ৭ ভরি রুপা খোয়া গেছে। জুয়েলারি দোকানের পাশাপাশি জিয়া হাওলাদারের মুদি দোকান ‘জিয়া স্টোর’ থেকেও প্রায় ৫ লাখ টাকার সিগারেট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর এই তাণ্ডব চালানো হয়। সকালে খবর পেয়ে তারা এসে দেখেন দোকানের সব মালামাল ও নগদ টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকায় এমন বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত হতে পেরেছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বাজারে স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Reporter Name 