নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ৫০০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদে এদিন সকালে যৌথ অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজার নেতৃত্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে উপস্থিত হয় রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদের ফলে খালি হওয়া জায়গার দখল নিতে এবং পুনরায় দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জেলা বিএনপির সাবেক এক নেতার অনুসারী যুবদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও স্থানীয় একটি সহযোগী সংগঠনের পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে তামিম নামের এক যুবদল কর্মী গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাদের মতে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শিমরাইল মোড়ের ফুটপাত থেকে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর ওই জায়গার নিয়ন্ত্রণ যেন হাতছাড়া না হয় এবং নতুন করে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা নিয়েই মূলত একাধিক গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক পক্ষ একই সঙ্গে ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করায় এই সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের বক্তব্য
উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা জানান, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে পুনরায় কেউ এই জায়গা দখল বা স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযান ও সংঘর্ষের সময় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীগণ, হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Reporter Name 