Dhaka 9:37 pm, Tuesday, 23 June 2026

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:31:10 pm, Tuesday, 17 February 2026
  • 151 Time View


‎​সোহাগ রানা, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

‎​ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। গতকাল উপজেলার বারতোপা এলাকা থেকে আসা এক রোগী হাসপাতালে ভর্তির মাত্র ২ ঘণ্টা পর মারা গেলে তার মরদেহ বাড়িতে নিতে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে ৫-৭ জন চালকের একটি চক্র। অথচ হাসপাতাল থেকে বারতোপার দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। স্বজনদের করুণ আকুতি সত্ত্বেও চালকরা ‘এর কম এক টাকাও হবে না’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে উপায় না দেখে স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়।
‎​
‎ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বারতোপা এলাকার এক রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির মাত্র ২ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। প্রিয়জনকে হারানোর আকস্মিক শকে যখন স্বজনরা দিশেহারা, তখনই শুরু হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হয়রানি। শোকার্ত স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নেওয়ার জন্য হাসপাতালের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে কথা বললে ৫-৭ জন চালক তাদের ঘিরে ধরেন এবং একযোগে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন।
‎​
‎পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তার জন্য এই ভাড়া আকাশচুম্বী। তারা বারবার অনুরোধ করলেও চালকরা সাফ জানিয়ে দেন, “৪ হাজার টাকার নিচে যাওয়া সম্ভব না”। শুধু তাই নয়, সিন্ডিকেটের ভয়ে অন্য কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা জিম্মি থাকার পর অসহায় পরিবারটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়।
‎​
‎অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের এই অমানবিক আচরণ নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রাইভেট গাড়ির ভাড়ার ব্যাপারে সরাসরি আইন প্রয়োগ করার সুযোগ সীমিত। যদি কোনো মালিক তার গাড়ি নির্দিষ্ট ভাড়ার কমে চালাতে না চান, তবে আইনিভাবে তাকে বাধ্য করা কঠিন। তবে হাসপাতাল এলাকায় এমন সিন্ডিকেট জনসাধারণের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ বলে তিনি স্বীকার করেন।
‎​
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি হওয়ায় এবং চালকদের নিজস্ব সিন্ডিকেট থাকায় সাধারণ মানুষের কিছু করার থাকে না। তবে সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন যদি কঠোর অবস্থান নিয়ে হাসপাতালের সামনে থেকে এই অবৈধ স্ট্যান্ড ও উশৃঙ্খল চালকদের বের করে দেয়, তবেই এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব। অন্যথায় বারতোপার এই পরিবারের মতো প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে শোকের মুহূর্তেও এমন অমানবিক হয়রানির শিকার হতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Hello world!

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট

Update Time : 07:31:10 pm, Tuesday, 17 February 2026


‎​সোহাগ রানা, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

‎​ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। গতকাল উপজেলার বারতোপা এলাকা থেকে আসা এক রোগী হাসপাতালে ভর্তির মাত্র ২ ঘণ্টা পর মারা গেলে তার মরদেহ বাড়িতে নিতে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে ৫-৭ জন চালকের একটি চক্র। অথচ হাসপাতাল থেকে বারতোপার দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। স্বজনদের করুণ আকুতি সত্ত্বেও চালকরা ‘এর কম এক টাকাও হবে না’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে উপায় না দেখে স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়।
‎​
‎ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বারতোপা এলাকার এক রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির মাত্র ২ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। প্রিয়জনকে হারানোর আকস্মিক শকে যখন স্বজনরা দিশেহারা, তখনই শুরু হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হয়রানি। শোকার্ত স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নেওয়ার জন্য হাসপাতালের সামনে থাকা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে কথা বললে ৫-৭ জন চালক তাদের ঘিরে ধরেন এবং একযোগে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন।
‎​
‎পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তার জন্য এই ভাড়া আকাশচুম্বী। তারা বারবার অনুরোধ করলেও চালকরা সাফ জানিয়ে দেন, “৪ হাজার টাকার নিচে যাওয়া সম্ভব না”। শুধু তাই নয়, সিন্ডিকেটের ভয়ে অন্য কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা জিম্মি থাকার পর অসহায় পরিবারটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়।
‎​
‎অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের এই অমানবিক আচরণ নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রাইভেট গাড়ির ভাড়ার ব্যাপারে সরাসরি আইন প্রয়োগ করার সুযোগ সীমিত। যদি কোনো মালিক তার গাড়ি নির্দিষ্ট ভাড়ার কমে চালাতে না চান, তবে আইনিভাবে তাকে বাধ্য করা কঠিন। তবে হাসপাতাল এলাকায় এমন সিন্ডিকেট জনসাধারণের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ বলে তিনি স্বীকার করেন।
‎​
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি হওয়ায় এবং চালকদের নিজস্ব সিন্ডিকেট থাকায় সাধারণ মানুষের কিছু করার থাকে না। তবে সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন যদি কঠোর অবস্থান নিয়ে হাসপাতালের সামনে থেকে এই অবৈধ স্ট্যান্ড ও উশৃঙ্খল চালকদের বের করে দেয়, তবেই এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব। অন্যথায় বারতোপার এই পরিবারের মতো প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে শোকের মুহূর্তেও এমন অমানবিক হয়রানির শিকার হতে হবে।