মঞ্জুর রহমান রাজ
ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক জমি ও বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মর্মান্তিক এক ঘটনার ঘটেছে । ভাইয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মান্নান মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত মান্নান মিয়া ধামরাই থানাধীন কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর সকালে মান্নান মিয়া ও তার ভাই নেওয়াজ আলীর মধ্যে বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা মারধরে রূপ নেয়। এতে মান্নান মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
এই সহিংসতায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জুয়েল (৪০), তার স্ত্রী রুমা বেগম (৩২) এবং তাদের কিশোর সন্তান আলামিন (১৬)। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মান্নান মিয়ার মেয়ে রুমা জানান, বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত কয়েক দিন আগেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রথম তাকে মারধর করা হয়। এরপর শনিবার বিষয়টি জানতে পেরে তার স্বামী ও বাবা প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। উদ্ধার করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, কুশরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে মান্নান মিয়া গুরুতর আহত হন এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই আরেকটি করুণ উদাহরণ হয়ে থাকল।
Reporter Name 