Dhaka 11:03 pm, Tuesday, 23 June 2026

ধামরাইয়ে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য: প্রশাসন ‘ম্যানেজ’-এর দাবিতে তিন ভাটা বেপরোয়া

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:50:29 pm, Monday, 29 December 2025
  • 120 Time View

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার গোয়ালদী ও কালামপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই একের পর এক ইটভাটা অবৈধভাবে ইট উৎপাদন করে আসছে। এসব ভাটার কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমির ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স লামিয়া ব্রিকস, মেসার্স সোহাগ ব্রিকস ও মা ব্রিকস—এই তিনটি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভাটা ও মালিকানা
মেসার্স লামিয়া ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদীকালামপুর, ধামরাই, ঢাকা
মেসার্স সোহাগ ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদী, কালামপুর, ধামরাই
মালিক: মোঃ সফিকুল ইসলাম
মা ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদী, কালামপুর, ধামরাই
মালিক: মোঃ আজহার খান
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাটাগুলোর নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র, নেই জেলা প্রশাসনের অনুমোদন কিংবা বৈধ ট্রেড লাইসেন্স। তবুও দিনের পর দিন প্রকাশ্যেই চলছে ইট পোড়ানো।
এ বিষয়ে মেসার্স লামিয়া ব্রিকস–এর ম্যানেজার হযরত আলী বলেন,
“ইট তৈরি করতে কোনো অনুমোদনের দরকার হয় না। আমরা প্রশাসন ম্যানেজ করেই সবকিছু করি। নিউজ করে কোনো লাভ হবে না।”
ম্যানেজারের এমন বক্তব্য প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে মেসার্স সোহাগ ব্রিকস–এর মালিক মোঃ সফিকুল ইসলাম ও মা ব্রিকস–এর মালিক মোঃ আজহার খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, বায়ুদূষণ বেড়ে যাচ্ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সারাদিন ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন,
“আমরা অবৈধ ইটভাটার বিষয়টি অবগত হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী পরিবেশ ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন অমান্য করলে ভাটা বন্ধ, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Hello world!

ধামরাইয়ে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য: প্রশাসন ‘ম্যানেজ’-এর দাবিতে তিন ভাটা বেপরোয়া

Update Time : 01:50:29 pm, Monday, 29 December 2025

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার গোয়ালদী ও কালামপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই একের পর এক ইটভাটা অবৈধভাবে ইট উৎপাদন করে আসছে। এসব ভাটার কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমির ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স লামিয়া ব্রিকস, মেসার্স সোহাগ ব্রিকস ও মা ব্রিকস—এই তিনটি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভাটা ও মালিকানা
মেসার্স লামিয়া ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদীকালামপুর, ধামরাই, ঢাকা
মেসার্স সোহাগ ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদী, কালামপুর, ধামরাই
মালিক: মোঃ সফিকুল ইসলাম
মা ব্রিকস
ঠিকানা: গোয়ালদী, কালামপুর, ধামরাই
মালিক: মোঃ আজহার খান
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাটাগুলোর নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র, নেই জেলা প্রশাসনের অনুমোদন কিংবা বৈধ ট্রেড লাইসেন্স। তবুও দিনের পর দিন প্রকাশ্যেই চলছে ইট পোড়ানো।
এ বিষয়ে মেসার্স লামিয়া ব্রিকস–এর ম্যানেজার হযরত আলী বলেন,
“ইট তৈরি করতে কোনো অনুমোদনের দরকার হয় না। আমরা প্রশাসন ম্যানেজ করেই সবকিছু করি। নিউজ করে কোনো লাভ হবে না।”
ম্যানেজারের এমন বক্তব্য প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে মেসার্স সোহাগ ব্রিকস–এর মালিক মোঃ সফিকুল ইসলাম ও মা ব্রিকস–এর মালিক মোঃ আজহার খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, বায়ুদূষণ বেড়ে যাচ্ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সারাদিন ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন,
“আমরা অবৈধ ইটভাটার বিষয়টি অবগত হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী পরিবেশ ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন অমান্য করলে ভাটা বন্ধ, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।