Dhaka 11:02 pm, Tuesday, 23 June 2026

নদীভাঙনের দুঃসময়েও জনগণের কান্না শুনলো না প্রশাসন : তীব্র ক্ষোভ এস এ জিন্নাহ কবিরের

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:29:48 pm, Saturday, 23 August 2025
  • 237 Time View

নান্নু মিয়া,স্টাফ রির্পোটারঃ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু এই দুঃসময়েও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও প্রশাসনের লোকজন মিলে আয়োজন করেছে নৌকা বাইচের নামে আনন্দ-ফুর্তির মহোৎসব। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের চোখের জলে তারা যেন উৎসবের নৃত্য সাজিয়েছে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির ১নং সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির গণমাধ্যমকে বলেন “জনগণ ঘর হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে, শিশু-বৃদ্ধরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অথচ প্রশাসন ও কিছু সুবিধাভোগী লোক লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নৌকা বাইচ আয়োজন করেছে। এই টাকায় যদি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে সামান্য অর্থ কিংবা ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হতো, তবে অন্তত তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই আনন্দই যেন জনগণের দুঃখের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন “এই আয়োজন শুধু অমানবিক নয়, এটি হলো কিছু লোকের নিষ্ঠুর উদযাপন। নদীভাঙনের শিকার মানুষ যখন চোখের জলে ভাসছে, তখন তাদের সামনে এ ধরনের আনন্দ উৎসব আসলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের হৃদয়ে নতুন ক্ষত তৈরি করছে। আমি রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এস এ জিন্নাহ কবির আরও জানান, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিএনপি নদীভাঙনপীড়িত প্রতিটি পরিবারের হাতে এক বস্তা চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি আমরা। আমরা দুঃখী মানুষের পাশে আছি, থাকব। জনগণের টাকায় উৎসব করে নয়, আমরা জনগণের চোখের জল মুছতে এসেছি।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাসুদুর রহমান (মাসুদ), মানিকগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. নাসির উদ্দীন, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. রাজা মিয়া (মেম্বার), ঘিওর উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, আমির হামজা পিন্টু, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলসহ আরও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বদলে প্রশাসনের আনন্দ আয়োজনকে এলাকাবাসী বলেছেন— “এটি জনগণের দুর্দশার প্রতি নির্মম উপহাস।”

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Hello world!

নদীভাঙনের দুঃসময়েও জনগণের কান্না শুনলো না প্রশাসন : তীব্র ক্ষোভ এস এ জিন্নাহ কবিরের

Update Time : 09:29:48 pm, Saturday, 23 August 2025

নান্নু মিয়া,স্টাফ রির্পোটারঃ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু এই দুঃসময়েও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও প্রশাসনের লোকজন মিলে আয়োজন করেছে নৌকা বাইচের নামে আনন্দ-ফুর্তির মহোৎসব। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের চোখের জলে তারা যেন উৎসবের নৃত্য সাজিয়েছে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির ১নং সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির গণমাধ্যমকে বলেন “জনগণ ঘর হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে, শিশু-বৃদ্ধরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অথচ প্রশাসন ও কিছু সুবিধাভোগী লোক লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নৌকা বাইচ আয়োজন করেছে। এই টাকায় যদি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে সামান্য অর্থ কিংবা ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হতো, তবে অন্তত তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই আনন্দই যেন জনগণের দুঃখের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন “এই আয়োজন শুধু অমানবিক নয়, এটি হলো কিছু লোকের নিষ্ঠুর উদযাপন। নদীভাঙনের শিকার মানুষ যখন চোখের জলে ভাসছে, তখন তাদের সামনে এ ধরনের আনন্দ উৎসব আসলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের হৃদয়ে নতুন ক্ষত তৈরি করছে। আমি রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এস এ জিন্নাহ কবির আরও জানান, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিএনপি নদীভাঙনপীড়িত প্রতিটি পরিবারের হাতে এক বস্তা চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি আমরা। আমরা দুঃখী মানুষের পাশে আছি, থাকব। জনগণের টাকায় উৎসব করে নয়, আমরা জনগণের চোখের জল মুছতে এসেছি।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাসুদুর রহমান (মাসুদ), মানিকগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. নাসির উদ্দীন, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. রাজা মিয়া (মেম্বার), ঘিওর উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, আমির হামজা পিন্টু, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলসহ আরও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বদলে প্রশাসনের আনন্দ আয়োজনকে এলাকাবাসী বলেছেন— “এটি জনগণের দুর্দশার প্রতি নির্মম উপহাস।”